ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশ থেকে ১৬ দফা দাবি ঘোষণা
📍 সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা | শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
দেশে রাজনৈতিক সংস্কার, স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থা এবং সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচনসহ ১৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত মহাসমাবেশ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ‘মহাসমাবেশের ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন। ঘোষণাপত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় এই মহাসমাবেশকে “আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি গৌরবময় মাইলফলক” হিসেবে অভিহিত করা হয়।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বৈরাচার প্রতিরোধ এবং শোষণমুক্ত রাষ্ট্র নির্মাণে ইসলামী আন্দোলনের সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

ঘোষিত ১৬ দফা দাবিসমূহ:
1. আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস–কে সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন।
2. সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক (PR) পদ্ধতিতে নির্বাচন নিশ্চিত করা।
3. জুলাই সনদের ঘোষণা বাস্তবায়ন এবং শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐকমত্য গঠন।
4. স্বৈরাচার রোধে মৌলিক রাষ্ট্র সংস্কার নিশ্চিত করা।
5. নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠনে প্রশাসন থেকে ফ্যাসিবাদী প্রভাব দূর করা।
6. ফ্যাসিবাদের বিচার এবং পালিয়ে থাকা অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা।
7. পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
8. সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি রোধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।
9. ভারতের সঙ্গে করা সব চুক্তি প্রকাশ এবং দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল।
10. জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের বিধান।
11. দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি ও সন্ত্রাসীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা।
12. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।
13. ঘুষ, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
14. ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতা বিরোধী কার্যকলাপে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা।
15. জাতীয় ঐক্য গঠন করে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের প্রতিরোধ।
16. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামের আলোকিত আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান।
সমাবেশে নেতারা বলেন, “এই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। এটি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম দুপুর ২টা থেকে শুরু হলেও সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নেতা-কর্মীদের ঢলে উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই মহাসমাবেশ দেশের রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন উপস্থিত নেতারা।
