নরসিংদীতে কিশোরী হত্যা: ধর্ষণের বিচার দাবি করায় অপহরণের পর হত্যা, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নরসিংদী জেলার মাধবদী থানা এলাকায় ধর্ষণের বিচার দাবি করায় এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করার অভিযোগে ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারভুক্ত চারজনকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে ইমরান দেওয়ান (৩২) এবং মো. এবাদুল্লাহ (৩৫), আইয়ুব আলী (৩০) ও মো. গাফফার (৩৭)।
মহিষাশুড়া ইউনিয়ন এলাকার বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি সরিষা ক্ষেত থেকে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে পরিবারসহ ভাড়া বাসায় থাকত। তার বাবা ও ভাই স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের নেতৃত্বে ১৫ দিন আগে পাঁচ-ছয়জন যুবক কিশোরীকে অপহরণ করে এবং তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবারটি স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেন এবং কোনো বিচার হয়নি।
পরবর্তীতে বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত বুধবার কিশোরীর বাবা তাকে নিয়ে খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক বাবার সামনে থেকেই কিশোরীকে ছিনিয়ে নেয়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। পরদিন সকালে সরিষা ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
