এনসিপি সততা ও স্বচ্ছতার প্রমাণে ব্যর্থ: অভিযোগ আপ বাংলাদেশের
ঢাকা, ৩০ জুন:
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজেদের সততা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি বলে অভিযোগ তুলেছে ‘ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ’ (আপ বাংলাদেশ)। সংগঠনটির দাবি, এনসিপির অনেক নেতার বিরুদ্ধে আর্থিক অস্বচ্ছতা ও অনৈতিকতার অভিযোগ রয়েছে, যা গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সোমবার (৩০ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে আপ বাংলাদেশের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন সংগঠনের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ।
“ছাত্র-জনতার একটি অংশ এনসিপির সঙ্গে নেই”
আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের আত্মত্যাগের ফসল। সেই প্রেক্ষাপটে এনসিপির মতো বিতর্কিত, আর্থিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ কোনো দল সেই চেতনার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। তাই ছাত্র-জনতার একটি বড় অংশ তাদের সঙ্গে নেই।”
তিনি বলেন, “৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ঘোষিত জুলাই ইশতেহার পাঠের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন সরকারের প্রধান। কোনও বেসরকারি ব্যক্তি বা সংগঠনের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।”
“সরকার এখনও ব্যর্থ জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে”
তিনি আরও বলেন, “সরকার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও আজও তা বাস্তবায়ন করেনি। একইসঙ্গে নিহত ও আহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ বা চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করেনি।”
“আবারও রাজপথে নামবে আপ বাংলাদেশ”
আলী আহসান জুনায়েদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকার যদি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দেয়, তাহলে আমরা আবারও ছাত্র-জনতাকে নিয়ে রাজপথে নামবো। একাত্তরের সঙ্গে তুলনা না করেও বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের পর এত বড় গণজাগরণ আর হয়নি।”
তিনি দাবি করেন, “মুক্তিযোদ্ধা কোটার নামে পরিবারতন্ত্র নয়, বরং যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারকে বাস্তবতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।”
জুলাই অভ্যুত্থানকে ঘিরে আপ বাংলাদেশের কর্মসূচি:
আপ বাংলাদেশ ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ কেন্দ্রিক একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এরমধ্যে রয়েছে:
- বিভাগভিত্তিক গণসংযোগ:
- ৪ জুলাই: বরিশাল
- ৫ জুলাই: রংপুর
- ১১ জুলাই: চট্টগ্রাম
- ১২ জুলাই: সিলেট
- ১৮ জুলাই: খুলনা
- ১৯ জুলাই: রাজশাহী
- ২৫ জুলাই: ময়মনসিংহ
- ২৬ জুলাই: ঢাকা
- বিশেষ স্মরণ ও প্রতিবাদ:
- ১৫ জুলাই: নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ স্মরণ
- ১৬ জুলাই: শহীদদের স্মরণ ও দোয়া
- ১৮ জুলাই: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন স্মরণ
- ২০ জুলাই: মেহনতি মানুষের স্মরণ
- ১ আগস্ট: ঘোষণাপত্রের দাবিতে বিক্ষোভ
- ৩ আগস্ট: “হাসিনা পতনের এক দফা” স্মরণ
- ৫ আগস্ট: গণঅভ্যুত্থান ও নতুন বাংলাদেশ দিবস উদযাপন
এছাড়াও, জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সংলাপ এবং সারাদেশে গণভিত্তি বাড়ানোর কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আপ বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক রাফে সালমান রিফাত, সদস্য সচিব আরেফিন মোহাম্মদ হিযবুল্লাহ ও মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরা।
